চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পেট ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন জনৈক ছাত্রী। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তার পেটে হাত দেয়ার নামে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত ডাক্তারের শাস্তি চেয়ে এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। করেছেন মানববন্ধন। ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে গতকাল সকালে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন কর্তৃপক্ষ। এতে প্রধান করা হয়েছে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. শিরীণ আক্তারকে। তবে যাকে নিয়ে এতো আলোচনা সেই চিকিৎসক মোস্তফা কামাল পুরো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ছাত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করেছেন।
হয়তো অন্য কেউ তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য মেয়েটিকে দিয়ে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় চিকিৎসক জনৈক ছাত্রীর সহপাঠী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্র।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় ইউনিভার্সিটির শহীদ মিনারের সামনে ঘটনার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেন অন্তত ৫০০/৬০০ শিক্ষার্থী। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্লে-কার্ডে ‘যৌন হয়রানি’ সংযুক্ত লেখা নিয়ে হাজির হন। সেখানে অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তি চেয়ে অপসারণ দাবি করেন তারা।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন। এই সময় তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটি উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা কাম্য নয়। দায়ী ব্যক্তিকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রানা আহমেদ, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ফয়সাল আহমেদ, ইতিহাস বিভাগের মারুফ, দীন ইসলাম ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামসহ প্রমুখ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় পেটে ব্যথা নিয়ে মেডিকেল সেন্টারে যায় ওই ছাত্রী। পরদিন শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
সেখানে জানান, ওই চিকিৎসক তার পেটে হাত দেয়ার কথা বলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আক্তারকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান শিরীণ আক্তার দুই পক্ষকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনে শিগগিরই প্রতিবেদন দেবেন বলে জানিয়েছেন।

0 comments :
Post a Comment